Header Ads Widget

২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপিতে ফের সক্রিয় দিলীপ ঘোষ, রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে করবেন জোড়া জনসভা

আবারো বাংলার রাজনীতির ময়দানে সক্রিয় দাবাং দিলীপ ঘোষ 
VOICE TAKE: বাংলার রাজনীতিতে আবার সক্রিয় ভূমিকায় বঙ্গ রাজনীতির অন্যতম চর্চিত চরিত্র দিলীপ ঘোষ। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের ৭ বারের জেতা বিধায়ক জ্ঞানসিং সোহন পালকে খড়গপুর সদর আসনে হারিয়ে বাংলার রাজনীতিতে সাড়া ফেলে দেন তিনি । সেবছরই পান বঙ্গ বিজেপির সভাপতির দায়িত্ব। দিলীপ ঘোষের হাত ধরে বাংলায় বিজেপির সংগঠন দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে । বাংলার আনাচে কানাচে বিরোধী শক্তি হিসাবে উত্থান হয় বিজেপির সিপিআইএমকে সরিয়ে । ১৯ এর লোকসভা নির্বাচনে তার নেতৃত্বে অভূতপূর্ব সাফল্য পায় বিজেপি । বাংলা থেকে ১৮ জন বিজেপির টিকিটে জয়ী হয়ে সাংসদ হন।  দিলীপ ঘোষ খড়গপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে বিজয়ী হন । তারপর থেকে বাংলায় বিজেপির একপ্রকার ঝড় শুরু হয়। পরিস্থিতি এমন হয় যে ২০১৯ এর লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলের পরবর্তী সময় থেকে প্রায় প্রতিদিন রাজ্যের কোনো না কোনো প্রান্তে শাসক দল থেকে নেতা কর্মীরা গেরুয়া শিবিরে নাম লেখানো শুরু করে । তার নেতৃত্বে ২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনে লড়ে ভারতীয় জনতা পার্টি।  দল ক্ষমতায় আসার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হলেও ৭৭ টি আসনে সীমিত থেকে যায় বিজেপি। বহু কর্মী ঘরছাড়া হয় , অনেক কর্মী ভোট পরবর্তী হিংসায় প্রাণ হারান। বঙ্গ বিজেপির সভাপতি পদ থেকে তাকে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয় সুকান্ত মজুমদারকে । দিলীপ ঘোষ হন কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি। ২০২৩ অবধি তিনি সেই দায়িত্বে বহাল ছিলেন । ২০২৪ এর লোকসভা নির্বাচনে ফের টিকিট পান দিলীপ বাবু কিন্তু খড়গপুর এর বদলে দল তাকে বর্ধমান- দুর্গাপুর আসন থেকে প্রার্থী করে । তৃনমূল কংগ্রেসের হেভিওয়েট তারকা প্রার্থী কীর্তি আজাদের কাছে তিনি পরাজিত হন। তারপর থেকে বিজেপির রাজনীতিতে ক্রমাগত গুরুত্ব হারাতে থাকে । মিডিয়ার লাইমলাইটে থাকলেও দলীয় কর্মসূচি বা বৈঠকে দিলীপ ঘোষ ব্রাত্য হতে থাকেন । এর পর মিডিয়ার সামনে দিলীপ ঘোষের একাধিক মন্তব্য দলকে অস্বস্তিতে ফেলে ।  এরই মধ্যে গত বছর দীঘায় জগন্নাথ ধাম উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে সস্ত্রীক দিলীপ ঘোষের একান্ত আলাচারিতা বিতর্কের জন্ম দেয় । তিনি তৃনমূল কংগ্রেসে যোগ দেবেন এমন খবরও রটে গিয়েছিল।  শমীক ভট্টাচার্য রাজ্য সভাপতি হওয়ার তিনি একান্ত বৈঠক সারলেও তাকে বিজেপির মূলস্রোতের রাজনীতিতে  তখনও সক্রিয় হতে দেখা যায়নি । ২০২৫ এর ডিসেম্বরের শেষে রাজ্য সফরে আসেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ , সেই বৈঠকে ডাক পান দিলীপ ঘোষ। ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনকে মাথায় রেখে তাকে ফের সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেন অমিত শাহ । এর পর আজ অর্থাৎ ৬ই জানুয়ারি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে দুটি জায়গায় পরিবর্তন সংকল্প সভায় যোগ দেবেন তিনি। প্রথম সভাটি করবেন রানাঘাটে আর দ্বিতীয় সভা করবেন ব্যারাকপুরে । দিলীপ বাবুর এই ফিরে আসা আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে কতটা সুফল বয়ে আনতে পারে সেটারই অপেক্ষায় রাজনৈতিক মহল।  

Post a Comment

0 Comments